Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২২nd জুন ২০২১

রাবার চাষ ও রাবার শিল্প সম্প্রসারণে নারী উদ্যোক্তা তৈরি বিষয়ক সেমিনার আয়োজন (জুন, ২০২১)


প্রকাশন তারিখ : 2021-06-20

           গত ২০/০৬/২০২১ খ্রি তারিখ সকাল ১১:০০ টায় বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের উদ্যোগে রাবার চাষ ও রাবার শিল্পের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে বাংলাদেশ রাবার বোর্ড শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। জুম প্লাটফর্মে আয়োজিত উক্ত সেমিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে কনসেপ্ট পেপার উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান সৈয়দা সারওয়ার জাহান (অতিরিক্ত সচিব)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রাবার বোর্ডের সচিব (অঃ দাঃ) জনাব বিদর্শী সম্বৌধি চাকমা। উক্ত সেমিনারে চিটাগং উইমেন চেম্বার, বাংলাদেশ রাবার গার্ডেন ওনার্স এ্যাসোসিয়েশন, আদিবাসী রাবার বাগান মালিক সমিতি, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব এর প্রতিনিধিসহ রাবার বোর্ডের সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

           সেমিনারের শুরুতে রাবার বোর্ডের সম্মানিত চেয়ারম্যান মহোদয় সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কনসেপ্ট পেপার উপস্থাপন করেন। তিনি ভার্চুয়াল পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশে রাবার চাষের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস এবং বাংলাদেশ রাবার বোর্ড প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। রাবার চাষ বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কত গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বলেন যে, রাবার চাষের মাধ্যমে দেশের ক্রমবর্ধনশীল চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানির মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। রাবার হতে প্রায় ৪৬ হাজারের বেশি পণ্য উৎপাদিত হয়। রাবার চাষে সম্পৃক্ত হওয়ার পাশাপাশি এসব ফিনিশড প্রোডক্ট উৎপাদনে এগিয়ে আসার জন্য তিনি নারী উদ্যোক্তাগণকে আহ্বান করেন।

           রাবার উৎপাদনে আন্তর্জাতিক মান অর্জনে উদ্যোগ হিসেবে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে দুটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ গ্রহন করেছে, Association of Natural Rubber Producing Countries (ANRPC) এবং International Rubber Research and Development Board (IRRDB)। ভারত ও শ্রীলংকা হতে উচ্চফলনশীল রাবার চারা আমদানির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

           রাবার চাষ সম্প্রসারণে বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসকগণের সমন্বয়ে মতবিনিময় সভা ও বিভিন্ন রাবার বাগান নিয়মিত পরিদর্শন করা হচ্ছে। রাবার বাগান মালিক, ম্যানাজার, রাবার চাষি, শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে রাবার উৎপাদন ২,০০,০০০ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনায় বাংলাদেশ রাবার বোর্ড কাজ করছে মর্মে তিনি জানান।

           তিনি রাবার চাষে বিভিন্ন সমস্যার কথাও বিস্তারিত আলোচনা করেন। বাংলাদেশে রাবার উৎপাদন ও ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্তের অভাব, আধুনিক উপকরণ ও গবেষণাগারের অভাব, আমদানিকৃত রাবারের আমদানি শুল্ক কম হওয়াসহ বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেন। এছাড়া রাবার বাগান মালিকগণের নিকট হতে যেসব অভিযোগ পাওয়া যায় সেগুলোও তিনি তুলে ধরেন। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে লীজকৃত জমি অবৈধ দখল হওয়া, বন্য হাতীর আক্রমণে রাবার বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, বাগানে আগুন লাগার আশঙ্কা এবং সড়ক ও বাগানে চাঁদাবাজি ইত্যাদি।

           চেয়ারম্যান মহোদয় আরো বলেন, রাবার বাগান শুরু করার পর লাভের মুখ দেখতে ৭-৮ বছর অপেক্ষা করতে হলেও রাবার গাছ ল্যাটেক্স উৎপাদন আরম্ভ করার পর গড়ে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রতিদিন ল্যাটেক্স প্রদান করে। তিনি বলেন, রাবার গাছ এমন একটি গাছ, যে গাছ প্রতিদিন টাকা দেয়।

           দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য টেকসই অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের কোন বিকল্প নেই। রাবার উৎপাদন এসব লক্ষ্য অর্জনে যেমন সহায়তা করে, দেশের অগ্রযাত্রায় নারীর অংশগ্রহণও অত্যাধিক গুরুত্বপূর্ণ। আর রাবার উৎপাদনে নারী উদ্যোক্তাগণ এগিয়ে আসলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশ বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা আরো দ্রুত সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

           বাংলাদেশে রাবার চাষে সরকারের অন্যতম সহযোগী সংস্থা বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফআইডিসি) এর মহাব্যবস্থাপক জনাব মোঃ মোকছেদুর রহমান বলেন, বিএফআইডিসি’র কারখানার প্রযুক্তি ও সুযোগ-সুবিধা সবই পুরনো আমলের। রাবার চাষে সম্পৃক্তদের প্রফেশনাল প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ সীমিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ রাবার বোর্ড রাবার প্রশিক্ষণ ইন্সটিটিউট তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করলে বাংলাদেশে রাবার খাত সমৃদ্ধ হবে।

           বাংলাদেশ বন গবেষণা ইন্সটিটিউট (বিএফআরআই) এর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জনাব ড. মোঃ মাহমুদুর রহমান বলেন, আজকের সেমিনারের মাধ্যমে রাবার শিল্পে কী ধরণের সম্ভাবনা রয়েছে তা নারী উদ্যোক্তাগণ জানাতে পেড়েছেন। রাবার গাছ থেকে ল্যাটেক্স ছাড়াও উন্নতমানের কাঠ, বাগান থেকে মধু ও রাবার বীজ থেকে তেল সংগ্রহ করা যায় মর্মে তিনি উপস্থিত সকলকে জানান। বিএফআরআই এর প্রাক্তন বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. এমদাদ হোসেন জানান পাহাড়ে প্রায় ১৮ লক্ষ একর পতিত জায়গা রয়েছে যেগুলো সমীক্ষা করে রাবার চাষের আওতায় আনা যেতে পারে। তিনি রাবার শিল্পে নারীদের অংশগ্রহণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

           সেমিনারের এ পর্যায়ে চিটগাং উইমেন চেম্বারের সভাপতি জনাব মনোয়ারা হাকিম আলী বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে নারী উদ্যোক্তাগণ অগ্রনী ভূমিকা পালন করছেন। চিটগাং উইমেন চেম্বারের মাধ্যমে নারীদের অনুপ্রাণিত করে তারা দেশের সমাজ ও অর্থনীতি উন্নয়নে ভূমিকা রাখছেন। তিনি বলেন বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের সাথে চিটাগাং উইমেন চেম্বারের এই আলোচনা মাইলফলক হয়ে থাকবে। নারী উদ্যোক্তাদের জন্য তিনি শীঘ্রই একটি ওয়ার্কশপ আয়োজন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, যেখানে তাদেরকে রাবার চাষের প্রাথমিক বিষয়গুলো সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

           নারী রাবার চাষি জনাব কোহিনূর কামাল জানান, তিনি প্রায় ২০০ একর জমিতে রাবার চাষ করছেন। নতুন নারী উদ্যোক্তাগণকে তিনি সহায়তা করতে পারবেন বলে জানান। এছাড়া রাবারকে কৃষি পণ্য হিসেবে ঘোষণা করলে বিদ্যমান রাবার চাষিরা উপকৃত হবে এবং নতুন উদ্যোক্তারাও রাবার চাষে আগ্রহী হবে মর্মে তিনি জানান।

           এছাড়াও চিটগাং উইমেন চেম্বারের পরিচালক জনাব সালেহা আবেদিন, জনাব লুতফা সানজিদা ও জনাব মহাম্মদ আলীসহ অনেকেই উক্ত সেমিনারে নিজ নিজ বক্তব্য উপস্থাপন করেন। অতপর সেমিনারে আর কোন আলোচ্য বিষয় না থাকায় বাংলাদেশ রাবার বোর্ডের চেয়ারম্যান মহোদয় সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।                                                                                          

 

 

 


Share with :

Facebook Facebook